সুশান্ত কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা, আলীকদম:
বান্দরবানের লামায় পাহাড় কাটা বন্ধে তিন দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ। একই সঙ্গে প্রশাসনের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে স্থানীয় আর্মি ক্যাম্প কমান্ডারকেও নির্দেশনা দিয়েছেন আদালত।
‘বান্দরবানের লামায় ৪০ ইটভাটার জন্য পাহাড় ধ্বংস’ শিরোনামে গত ২৫ আগস্ট দৈনিক কালের কণ্ঠে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিকে লামা উপজেলায় পাহাড় কেটে ইটভাটার মালিকদের পরিবেশ ধ্বংসের বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
এসব প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জনস্বার্থে পাহাড় কাটা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) গত ৩০ অক্টোবর হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করে।
উক্ত রিট পিটিশনের শুনানি শেষে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঁইয়ার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ চার সপ্তাহের রুল জারি করেন। একই সঙ্গে একটি মনিটরিং কমিটি গঠন করে তিন দিনের মধ্যে লামায় পাহাড় কাটা বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন আদালত।
অপর এক আদেশে বিবাদীদের সাত দিনের মধ্যে পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে পরিবেশ আইনের ১৫ ধারা অনুযায়ী শাস্তি ও অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড প্রয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৩০ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
শুনানিতে অংশ নেওয়া সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এ পাহাড় কাটা বা ধ্বংস করার ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে। ওই আইনের ১৫ ধারায় পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের জেল বা অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। আইনের কঠোর প্রয়োগ না হওয়ায় পার্বত্যাঞ্চলে পাহাড় কেটে ইটভাটার মালিকরা পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করছেন, যা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।’
তিনি আরও বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে ইটভাটার মালিকরা এতটাই বেপরোয়া যে, আদালতের বিভিন্ন নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও তারা ইটভাটা পরিচালনার জন্য পাহাড় কাটছেন।’
আদালতের জারি করা রুলে লামা উপজেলায় পাহাড় কাটা বন্ধে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, বান্দরবান জেলায় পাহাড় কাটা ও ধ্বংস করা বন্ধে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না এবং কেটে ফেলা পাহাড় পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না—তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
রিট পিটিশনে বাদী ছিলেন এইচআরপিবির পক্ষে অ্যাডভোকেট মো. ছারওয়ার আহাদ চৌধুরী ও অ্যাডভোকেট রিপন বারোই। বিবাদীরা হলেন পরিবেশ সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও পরিচালক, বান্দরবানের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং বান্দরবান আর্মি ক্যাম্প কমান্ডারসহ মোট ১১ জন।
রিটকারীর পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। তাঁকে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট সঞ্জয় মণ্ডল ও অ্যাডভোকেট নাছরিন সুলতানা। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মহিউদ্দিন মো. হানিফ।
